প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্নে মেহেদি এর ব্যবহার চলে আসছে সেই প্রাচীন সময় থেকে। এছাড়া হাত রাঙানোর কাজেও এটি ব্যবহার হয়। চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি, চুল বড় করার জন্য মেহেদি পাতার জুড়ি নেই। সুন্দর, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের পাশাপাশি মেহেদি মাথা ঠাণ্ডা রাখতেও বেশ কার্যকর। চুলের জন্য মেহেদি পাতা সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয়। ঘন কালো উজ্জ্বল চুল পেতে কার না মন চায়। কিন্তু আবাহাওয়ার বিরূপ অবস্থা এবং কাজের ব্যস্ততার জন্য চুলের দিকে খেয়াল রাখার সময় হয় না কারোরই। আর এক্ষেত্রে মেহেদি পাতা ব্যবহারে খুব সহজেই পেতে পারেন স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ঘন কালো চুল। বাজারে এখন পাওয়া যায় মেহেদি পাতা গুঁড়ো। সেগুলোও বেশ ভালো কাজে দেয়।

চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতেঃ

১ কাপ পরিমাণ মেহেদি পাতা বাটা, ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল, ২-৩ টেবিল চামচ টকদই একত্রে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন এক ঘণ্টা। এরপর শুধু পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন। পরের দিন মাথায় শ্যম্পু করে চুল ভালো করে ধুয়ে নিন। মাসে মাত্র দু’বার ব্যবহার করুন এই প্যাকটি। দেখবেন চুল অনেক ঘন এবং কালো হয়ে গেছে।

কন্ডিশনার হিসেবেঃ

১ কাপ মেহেদি পাতা বাটার সঙ্গে ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ১টি ভিটামিন “ই” ট্যাবলেট মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগান এই মিশ্রণটি। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে এক দিন ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা এবং আগা ফাটা একেবারে বন্ধ হবে।

চুল রাঙ্গাতেঃ

আজকাল অনেকেরই অল্প বয়সেই মাথার চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। তারা যদি নিয়মিত মেহেদি পাতা ব্যবহার করেন তাহলে চুলের সাদাটে ভাব দূর করতে পারবেন। প্রথমে ২ টেবিল চামচ আমলকী গুঁড়ো ১ কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে দিয়ে এতে রঙ চা দিন ১ চা-চামচ এবং ২টি লবঙ্গ। এবার এই পানিতে পরিমান মত মেহেদি পাতা বাটা ব্যবহার করে থকথকে পেস্টের মতো তৈরি করুন। এই পেস্টটি চুলে লাগিয়ে রাখুন ২ ঘণ্টা। ২ ঘণ্টা পর চুল সাধারণভাবে ধুয়ে ফেলুন। সাদা চুল ঢেকে যাবে সহজেই।

খুশকি দূরীকরণঃ

খুশকির সমস্যায় কমবেশি সবাই পড়ে থাকেন। এই নিয়ে বেশ হীনমন্যতায়ও পড়েন অনেকে। এই সমস্যার সমাধান করবে মেহেদি। মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরের দিন বেটে নিন। পরিমাণমত সরিষার তেল গরম করে এতে মেহেদি পাতা ফেলে দিন। ঠাণ্ডা হলে এই তেলে মেথি বাটা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় মাথার ত্বকে লাগান। ২ ঘণ্টা পরে চুল ধুয়ে ফেলুন। খুশকিমুক্ত হবে চুল খুব দ্রুত।

শুধু কি এই কটিই উপকারীতা? না, মেহদি পাতার আছে আরও অনেক অনেক উপকারীতা। কিন্তু একটি লেখায় তা শেষ করা সম্ভব নয়। তাই হয়ত আগামীতে আরও কোন পোষ্টে আমরা সেটি লিখবো। ততদিন পর্যন্ত আপনার চুলের যত্নের দায়িত্ব বাজারে পাওয়া ক্যামিকেল দ্বারা তৈরী জিনিষের উপর নির্ভন না করে মেহদি পাতার উপরই ছাড়ুন না। ক্যামিকেল থেকে দূরে, প্রাকৃতিক সমাধান গ্রহণই সবচাইতে ভালো উপায়।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য