ঘাড় ও গলার দাগ দূর করতে করণীয় নিয়ে আজকের আলোচনা। একজন মানুষের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার মাথার তালু থেকে শুরু করে পায়ের তলা পর্যন্ত সব খানে। বর্তমান সময়ে সব মেয়েরাই চেষ্টা করেন যেন তাকে উজ্জ্বল দেখায়। এটা করতে বিভিন্ন ক্রিম, প্রসাধনী, ভেষজ মিশ্রণও অনেকে ব্যবহার করেন। কিন্তু গলা, ঘাড়, পিঠ এগুলির ব্যপারে কয়জন লক্ষ্য রাখেন? ফলাফল হিসাবে দেখা যায় মুখের কালার টোন উজ্জ্বল হয়ে গেলেও গলা, কাধ ও পিঠ রয়ে যায় কালো। আবার বাইরের ধুলোবালি, ময়লা, রুক্ষ্য আবহাওয়া এসব মুখের যেমন ক্ষতি করে তেমনি করে গলা, কাধ পিঠেরও। কিন্তু আমরা মুখ ফেসওয়াস দিয়ে ধুলেও গলা-কাধ থেকে যায় অযত্নে। আর তাই মাঝে মধ্যেই গলা কাধ পিঠে দেখা যায় কালো কালো দাগের। আর আজকের সম্পূর্ণাতে আমরা আলোচনা করবো সেই সব দাগ কি করে দূর করা যায়।

১. এলোভেরাঃ

এলোভেরা যে মুখের উজ্জ্বল্য বাড়ায় এ কথা আমাদের সবারই জানা। আর সেই এলোভেরাই করতে পারে আমাদের গলা-কাধ-পিঠকে আরও উজ্জ্বল। তাই প্রতিদিন এলোভেরা জেল দিয়ে এ সব জায়গায় ম্যাসেজ করলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।

২. অলিভ অয়েলঃ

অলিভ অয়েলের গুনের কথা সবাই জানে। কিন্তু এটা জানেন কি যে এই তেল গলায় পিঠে এবং কাধে মাখলে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই গলা-কাধ-পিঠ এর দাগ গুলি সব উঠে যাবে? হ্যাঁ, এই কাজে অলিভ অয়েলের জুড়ি মেলা ভার।

৩. গোলাপ জল ও হলুদঃ

গোলাপ জলের সাথে সামান্য হলুদ গুড়া দিয়ে পেষ্ট তৈরী করুন। এবার সেই পেষ্ট গলা-কাধ-পিঠে মাখিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবহারে গলার কালো কালো ছোপ দূর হবে নিশ্চিত।

৪. নারিকেল তেলঃ

হয়ত অবাক হবেন এই তেল মাথায় না মাখতে বলে গলাতে কেন মাখতে বলছি ভেবে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে নারকেল তেলের প্রকৃতিক গুনাবলী একে গলার কালো দাগের সাথে লড়তে শক্তি দেয়। তাই নিয়মিত গলায় কাছে নারিকেল তেল দিয়ে ম্যাসেজ করলে ভালো ফল পাবেন।

৫. বাদামঃ

১০-১৫ মিনিটের জন্য কিছু বাদাম খোসা ছাড়িয়ে পানির মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর বাদাম গুলি বেটে নিয়ে মধুর সাথে মিশিয়ে গোসল করবার ১৫-২০ মিনিট আগে লাগিয়ে রাখুন। গোসল করতে ঢুকে প্রথমেই ঠান্ডা/স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬. চন্দন, গোলাপজল ও মুলতানী মাটিঃ

এই তিনটি উপাদান এক সাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরী করুন। গলা-কাধ-পিঠে মেখে ১০-১৫ মিনিট পর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২/৩ দিন এটি ব্যবহার করলে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই ভালো ফল পাবার আশা করতে পারেন।

৭. অন্যান্যঃ

পাকা পেঁপে, তরমুজরের রস, শশা, দই, চিনি, লেবুর রস, ওটস ইত্যাদি আরও অনেক কিছুর মিশ্রণ যা আমরা মুখের জন্য ব্যবহার করে থাকি এগুলি তাও আপনি গলা-কাধ-পিঠে ব্যবহার করতে পারেন। এবং এটা পরিক্ষিত যে এগুলি কাজ করে। সাথে সাথে মুখের বিভিন্ন স্ক্রাবার দিয়েও গলার যত্ন নিতে পারেন।

সৌন্দর্য সচেতন হতে হলে আপনাকে দেহের প্রকাশ পায় এমন সব স্থানেই লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনি যদি কোন অংশের প্রতি অযত্ন অবহেলা করেন, সেই অংশই আপনার জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য