কমবয়সে চুলপাঁকা রোধে করণীয়

2530

চুল পাকা মানেই বয়স অনেক, আমাদের সমাজে এমনই প্রচলিত আছে। দক্ষিন এশিয়ার দেশ গুলিতে যে প্রায় প্রত্যেকের চুলের রংই স্বাভাবিক ভাবে কালো হওয়ায় কারও চুল পাকা শুরু হলেই বোঝা যায়। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন প্রসাধনীর ব্যবহার, ধুলা, খাদ্যে ভেজাল, অতিরিক্ত চিন্তা ইত্যাদি কারণে অকালেই অনেকের চুল পেঁকে যায়। যা যেমন বিরক্তিকর, তেমনই লজ্জা জনক। আর তাই আমরা আজকের সম্পূর্ণায় হাজির হয়েছি কি করে কম বয়সে বা অকালে চুলপাঁকলে তা রোধ করা যায় সেই সমাধান নিয়ে, আশাকরি আপনাদের কাজে লাগবে।

১. আপনার চুলের ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু বাছাই করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। আর শ্যাম্পু ব্যবহারের পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

২. এক চা চামচ মেহদী পাতার গুড়া, এক চা চামচ শুকনা আমলকির গুড়া, এক থেকে দু’চা চামচ চা পাতা নিয়ে এক কাপ গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কিছু সময় পর এর মধ্যে ১/৪ (কোয়ার্টার) চা চামচ লবন, ১/২ (আধা) চা চামচ গোলাপ জল এবং একটি লেবুর রস মেশান। মিশ্রণটি ৫-৬ ঘন্টা ভালোভাবে ঢেকে রেখে দিন। তারপর এটি আঙ্গুলে করে চুলের ডগায় ও গোড়াতে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এতে চুল কালো হবে, চট করে চুল পাকার আর ভয় থাকবে না।

৩. সপ্তাহে দু-তিন দিন নারকেল তেল এর মধ্যে মেথি দিয়ে গরম করে চুলে ভালো ভাবে ম্যাসেজ করুন। এটি চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

৪. শুকনা আমলকির গুড়া পানি দিয়ে পেষ্টের মত তৈরী করে তা ভালো ভাবে মাথায় লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে নুন্যতম দু’দিন ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

৫. পেঁয়াজের রস মাথার চুল পড়া রোধে যেমন কার্যকরী, তেমনি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে এবং চুল পাকা রোধ করে। তাই মাঝে মধ্যে চুলে পেঁয়াজের রস লাগাতে পারেন।

white hair problem shompurna.com

৬. আমলকির গুড়া লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরী করে তা চুলে ভালোভাবে লাগালে আস্তে আস্তে চুল কালো হয়ে আসবে।

৭. মেহদী পাতা বেটে তার সাথে ডিমের কুসুম, টক দই এবং চায়ের লিকার মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে চুল পাকা কমে।

৮. যারা রোদে বেশী সময় কাজ করেন বা থাকেন, তারা মাথায় ভালোভাবে কাপড় দিয়ে রাখবেন। এতে করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মী আপনার চুলের খুব বেশী ক্ষতি করতে পারবে না।

৯. অনেকেই চুলে জেল বা ক্রিম, কেনা মেহদী এবং বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এগুলি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। ভালো মানের পণ্য আপনার চুলকে বাঁচাবে। আর খারাপ মানের পণ্য আপনার চুলের সর্বনাশ করবে।

১০. প্রচুর পরিমানে পানি, সবুজ শাক সবজী ও ফলমূল খেলে অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যা হয় না।

চুলের পাঁকা কমাতে বা রোধে আরও অনেক পদ্ধতিই আছে, তবে এই পদ্ধতি গুলি বহুল ব্যবহৃত এবং কার্যকরী। এ বিষয়ে আপনার কোন মতামত থাকলে আমাদের তা অবশ্যই জানাবেন। আর হ্যাঁ, মনে রাখবেন, চুলে যেন তেন ক্রিম/কন্ডিশনার/জেল ব্যবহার এবং অতিরিক্ত চিন্তার থেকে যত দূরে থাকবেন, চুলপাঁকাও আপনার থেকে তত দূরে থাকবে।


রূপচর্চা, দৈনন্দিন জীবন, রান্না, স্বাস্থ্য সহ মেয়েদের সকল বিষয়ে নিয়মিত টিপস পেতে সম্পূর্ণার সাথেই থাকুন। ফেসবুকে আমাদের ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে রাখতে পারেন, আর নিয়মিত আলোচনায় এবং আপনার মন্তব্য শেয়ার করতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। সাথে থাকবার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য