“ফুল” সে তো সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুল ভালোবাসে না পৃথিবীতে এমন মানুষ বিরল। ফুলের রং আর মিষ্টি সুবাসে মন যেমন আবেগে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে, তেমনি এই সুন্দর ফুল দিয়ে নিজেকে সাজাতে  রমনীদের জুড়ি নেই। খোঁপায় ফুল গোঁজা, হাতে ফুল  জড়ান এটাতো রমনীদের সৌন্দর্যের একটা অংশ। কিন্তু জানেন কি এই ফুল দিয়ে আপনি চাইলে রূপচর্চাও করতে পারেন, প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন ফুলের নির্যাস দিয়ে চলে আসছে রূপচর্চার ধারা। আর আজ তাই আমরা হাজির হয়েছি রূপচর্চায় ফুলের কিছু অসাধারন উপকার নিয়ে।

গোলাপ ফুলঃ

  • গোলাপ৮-১০ টি লাল গোলাপের পাপড়ি, ৩ চা চামচ কাঁচা দুধ, ১ চা চামচ বেসন, সাথে  ১ চা চামচ মধু মিসিয়ে ভালে ভাবে ব্লেন্ড করে  এই মিশ্রণটি পুরো মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা  করুন এরপর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি  ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ত্বককে করে তুলবে কোমল ও মসৃণ।
  • ১০-১২ গোলাপের পাঁপড়ি ভালো করে বেটে নিন। এর সাথে ত্বক তৈলাক্ত হলে লেবুর রস, শুষ্ক হলে কমলার রস এবং মিশ্র হলে শসার রস মিশিয়ে নিন। এরপর এ মিশ্রনটি তুলার বলের ওপর নিয়ে প্রতিদিন ত্বকে লাগান।  এই মিশ্রনটি বলিরেখা দূর করতে, ও ত্বকের উজ্জ্বলতা  বৃদ্ধি  করতে সাহায্য করে।

গাঁদা ফুলঃ

  • গাঁদাগাঁদাফুলে রয়েছে খুবই কার্যকর একটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। যা  ব্রণের সমস্যা দূর করতে ফুল খুবই ভালো কাজ করে। গাঁদাফুল ও পাতা থেঁতো করে ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। ব্রণ দূর হয়ে যাবে।
  • গোলাপ ফুলের সঙ্গে মধু ও লাল আতা মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ, উজ্জ্বল ও সতেজ।
  • রোদে পোড়া দাগ দূর করতে কয়েকটা গাঁদাফুলের পাঁপড়ি বেটে নিয়ে এতে ২ চা চামচ কমলার রস মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখসহ রোদে পোড়া অংশগুলোতে লাগান। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ত্বকের কালো ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে গাঁদাফুলের পাঁপড়ি বাটা, চন্দন পাউডার ও গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

জবা ফুলঃ

  • জবালাল জবাফুল থেঁতো করে নিন। এর সাথে চালের গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। তারপর আলতো হাতে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার করে এ মিশ্রণটি।
  • চুলের যত্নে ও জবা ফুল খুবি কার্যকরি। ৩-৪ টি লাল রক্ত জবা , ৬-৮ চা চামচ  নারকেল তেল, ও১০ গ্রাম আমলকি এক সাথে ভালো করে গরম করে ছেকে নিন এর পর ঠান্ডা হলে  চুলে ব্যবহার করুন।এটা যেমন চুল ওঠা কমাবে তেমনি চুল কালো হতে সাহায্যকরে।

পদ্ম ফুলঃ

  • পদ্মক্লিনজার, টোনার ও ময়েশ্চারাইজার.. এই ত্রিমুখী ভূমিকা পালন করতে পারে পদ্মফুলের রস।
    পদ্মফুলের পাঁপড়ি বেটে রস ছেঁকে নিন। ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে এই রসে তুলো ভিজিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতেও পদ্মফুলের জুড়ি নেই। পদ্মপাঁপড়ি চটকে নিয়ে চালের গুঁড়ার সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এটা স্ক্রাবার হিসেবে খুবই কার্যকরি।

রজনীগন্ধাঃ

  • রজনীগন্ধা শুষ্ক, রুক্ষ ত্বকে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে । পূর্ণস্ফুটিত রজনীগন্ধা ফুলের পাঁপড়ি বেটে নিন। এর সাথে সামান্য মাখন ও মধু মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

বেলীফুলঃ

  • বেলীবেলীফুল থেঁতো করে নিন। এর সাথে অ্যালোভেরার রস ও মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক টানটান ও মসৃণ হয়ে উঠবে। নিয়মিত ব্যবহারে বলিরেখা কমে যাবে ।

শাপলাফুলঃ

  • শাপলাশাপলাফুল ও তিল বেটে নিন। এর সাথে নিমের তেল মেশান। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এরপর বরফঠাণ্ডা পানিতে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ও ব্রণযুক্ত ত্বকের যত্নে এ মিশ্রণের তুলনা নেই।

ক্যামেলিয়াঃ

  • ক্যামেলিয়াক্যামেলিয়া ফুল, দুধ ও চালের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হবে আর ত্বক ফিরে পাবে লাবণ্য।

সতর্কতাঃ

  • ব্যবহার করার আগে ফুল ভালো করে ধুয়ে নিন।
  • বিভিন্ন মৌসুমে হরেক রকমের ফুল পাওয়া যায় এবং সেগুলো রূপচর্চায় কাজে লাগানো যেতেই পারে। তবে কোনোটিই সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ কোনোটির অম্লতা বেশি হতে পারে আর সেক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তাই অবশ্যই কোনো কিছুর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
  • ফুলের তৈরি প্যাক বা মিশ্রণগুলো টাটকা অবস্থায় ব্যবহার করা উচিত। বেশি দিন রেখে দিলে এতে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য