প্রাকৃতিক উপায় এবং প্রাকৃতিক প্রসাধনীর ব্যবহার সেই প্রাচীন কাল থেকেই প্রচলিত। যদিও আমরা বর্তমানে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য বহু রকম ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। একেক ত্বকের জন্য একেক ধরনের ক্রিম। আবার এতে থাকে নানান ধরণের সাইড ইফেক্ট! ফলে ত্বকে দেখা দেয় বিভিন্ন সমস্যা। তাই আজ আমরা লিখবো প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে পারি।

পানি পান করুনঃ

পানি আমাদের দেহ পরিষ্কার করে এবং বিষাক্ত উপাদান দূর করে। এটি দেহ থেকে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করে। আমাদের ত্বকের ১৫% তৈরি হয় পানি দিয়ে। প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার করে পানি পান করলে চেহারা হয় উজ্জ্বল। চেহারা থেকে দূর হয় শুষ্কতা। এক সপ্তাহ এভাবে পানি পান করলে চেহারার উজ্জ্বলতা সাথে সাথেই নজরে পড়ে।

শসা, গ্লিসারিন ও গোলাপজলঃ

শসার রস, গ্লিসারিন ও গোলাপজল একত্রে মিক্সচার করে বাহিরে বের হওয়ার পূর্বে ও রৌদ্রতেজ থেকে বাসায় ফিরে লাগালে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ত্বকে কালোছাপ পড়তে দেয়না।

ঘি এবং গ্লিসারিনঃ

গ্লিসারিনের সাথে ঘি মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে এটি ত্বককে করে তোলে অতি কোমল। আঙ্গুর ফলঃ চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য কয়েক টুকরো আঙ্গুর ফল ত্বকে রাব (ঘোষা) করলে কিংবা এর মিশ্রণ লাগালে উপকারী হয়। মধুঃ মধু ত্বকে নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে ত্বক হয়ে উঠে কোমল। পাশাপাশি বৃদ্ধি পায় উজ্জ্বলতা। বিশেষত শীত কালে এটি বেশি উপকারী।

মধু ও দারুচিনিঃ

তিন চামচ মধু ও এক চামচ দারুচিনি বাঁটা পেস্ট করে রাতে ঘুমানোর আগে পিম্পলে লাগিয়ে সকালবেলা ধুয়ে নিলে পিম্পল অনেকাংশ কমে। দু’তিন দিন এভাবে লাগালে পিম্পল দূর হয় সাথে দাগ ও কমে যায়। মধু ও বাঁধাকপিঃ বাঁধাকপি বেটে এর সাথে অল্প পরিমাণ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে, ত্বক থেকে কোঁচকানো ভাব দূর হয়।

মুখ ধৌতকরণঃ

উষ্ণপানি দিয়ে মুখ ধোয়ার ফলে ত্বকে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও র‍্যাশেস। যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ঠাণ্ডাপানি ত্বকের জন্য উপকারী। টমেটোঃ টমেটোর রসের সাথে অল্প পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক হয় উজ্জ্বল ও কোমল।
গাজরঃ গাজরের রস বানিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বলতম। সূর্যর তাপঃ এতে রয়েছে ভিটামিন ডি। আমাদের প্রত্যেকের দেহে যা প্রয়োজনীয়। ভোর ৭ টা থেকে সকাল ১০ টার রৌদ্র ত্বকের জন্য উপকারী। তবে ১০ টার পর থেকে দুপুর ২ টার রৌদ্র অনেক বেশি ক্ষতিকারক।

অ্যালোভেরাঃ

রৌদ্রেরঝাঁজ এ কালো হয়ে যাওয়া জায়গায় নিয়মিত অ্যালো-ভেরার মিশ্রণ লাগালে কালোদাগ দূর হয়। হলুদের গুড়াঃ হলুদের গুড়া, ময়দা ও তিল পেস্ট করে ত্বকে লাগালে ত্বক থেকে অপ্রয়োজনীয় লোমকূপ দূর হয়। চন্দন, হলুদ ও দুধঃ চন্দন, হলুদের গুড়া ও দুধ একত্রে মিশিয়ে মিক্সচার করে মুখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রাখার পর ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে ত্বক হয় অধিকতর উজ্জ্বল।

দুধ, লবণ ও লেবুঃ

দুধের সাথে এক চিমটি লবণ ও কিছু পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হয় পরিষ্কার ও পিম্পল মুক্ত।

চীনাবাদাম ও লেবুঃ

অল্পকিছু চীনাবাদামের সাথে ফ্রেশ লেবুর রস ত্বকে ব্যবহার ত্বক থেকে পিম্পল ও ব্ল্যাকহেডস দূর হয়। এই প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ত্বকে ব্যবহারের ফলে ত্বক হয়ে উঠে প্রাকৃতিক ভাবে সুন্দর ও সতেজ।

প্রাকৃতিক বা হারবাল প্রসাধন ব্যবহার করুনঃ

কেমিক্যাল মুক্ত হারবাল প্রসাধনের দিকে এগিয়ে যান।

লেবু পানি পান করুনঃ

লেবু পানি এবং এর উপকারীতা জানতে এই পোষ্টটি পড়ুনঃ এক গ্লাস লেবু পানি, এত্তোগুলো উপকারীতা!

দাগহীন উজ্জ্বল ত্বক পেতে কি করতে হবে?

তো পাঠক, এই ছিলো আজকের আয়োজন। রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য