দিনে ১০,০০০ পা হাটা, শুরু করবেন যেভাবে তা নিয়েই আজকের আলোচনা। প্রথমেই বলে রাখি, এই দিনে ১০,০০০ পা হাটা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে একটি স্ট্যান্ডার্ড মত। বলা হয়ে থাকে যদি কেউ সপ্তাহে মোট ৫ দিন, প্রতিদিনে ১০,০০০ পা হাটে, তাহলে তার দেহে বাড়তি কোন মেদ থাকা সম্ভবই না। আর আজকে আমরা জানাবো, এই ১০,০০০ পা হেটে বেড়ানো শুরু করতে পারেন যেভাবে তা নিয়ে।

এখানেই আরও একটা তথ্য দিয়ে রাখি, তবে দয়া করে ঘাবড়াবেন না। ১০,০০০ পা মানে আসলে কতটুকু, এটা ভেবেছন কি? একজন মানুষ সাধারণত প্রতি পদক্ষেপে ২.৫ ফিট দুরত্ব অতিক্রম করে, সেই হিসাবে ১০,০০০ পা মানে প্রায় ৭.৬২ কিলোমিটার! সংখ্যার হিসাবে খুবই বড় মনে হতে পারে। তবে আমরা আজকে দেখাবো কি করে আপনি এটার শুরুটা অন্তত করতে পারেন।

শুরু হোকঃ

প্রথমেই আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে আসলে আপনি কি চান, কতদিনে চান, কিভাবে চান। অনেক বড় কোন গোল সেট করা মোটেও উচিৎ হবে না। কেননা আপনি যদি বড় গোল সেট করেন, তাহলে সেটা করতে পারটা অনেক কষ্টের মনে হবে, এবং এক সময় হতাশ হয়ে ছেড়েই দিতে পারেন।

তাই, প্রথমেই ধরে নিন যে আপনি প্রতিদিন মাত্র দশ মিনিটের পথ হেটে যাবেন। বাসা থেকে বের হয়ে ঘড়ি ধরে ঠিক দশ মিনিট পথ সামনে আগান, এবার আবার দশ মিনিটের পথ ফিরে আসুন। পুরো সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয়দিন এভাবে হাটুন। যদি দেখেন যে আপনার কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাহলে পরবর্তি সপ্তাহে মাত্র ৫মিনিট বাড়তি যোগ করুন। অর্থাৎ সোজা পথে চলে যান ১৫ মিনিট, ফিরে আসুন ১৫ মিনিটে।

যা খেয়াল রাখবেন

হাটবার সময় কিছু জিনিষ মাথায় রাখুন, কিভাবে হাটছেন, হাটাটা যেন একেবারে মন্থর গতির না হয়, আবার অনেক দ্রুত গতির না হয়। হাটার শুরুটা করুন ধীরে, আস্তে আস্তে গতি বাড়াতে থাকুন, এবং এক সময় স্বাভাবিকের থেকে একটু দ্রুত হাটুন। আবার থামবার বেলাতেও একই কথা। দেহকে সোজা করে রাখুন, কুঁজো হয়ে হাটবেন না। লম্বা লম্বা নিশ্বাস নিতে পারেন, এটি ভালো হবে। হাটবার আগে, হাটবার সময় এবং হাটবার পরে প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। কারণ হাটলেই আপনার দেহ থেকে ঘাম ঝরবে, এবং এটা পূরণ না করতে পারলে আপনার দেহ দুর্বল হয়ে পড়বে।

যতটুকু হাটবেন

আপনা্র প্রতি সপ্তাহের গোল এভাবে আস্তে আস্তে বাড়াতে থাকুন। যেভাবেই হোক, এটাকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলুন। এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাটুন। প্রয়োজন অনুযায়ী বুঝেছেন তো? না বুঝলে নিচের হিসাবটা দেখুনঃ

  • যদি আপনি সাধারণ স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য হাটা শুরু করেন, তাহলে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটুন; এবং সারাদিন কাজের মধ্যে যথা সম্ভব হাটার চেষ্টা করুন।
  • যদি আপনি হৃদযন্ত্রের উপকারের জন্য হাটেন, তাহলে সপ্তাহে ৩-৪দিন ২০-৩০ মিনিট বেশ দ্রুত গতিতে, এবং বাকি ২-৩দিন সাধারণ গতিতে হাটুন।
  • আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য হাটেন, তাহলে সপ্তাতে অন্তত পাঁচ দিন ৪৫-৬০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাটুন, সাথে সাথে দেহকে সামান্য ঝাকি দিয়ে হাটুন।

সতর্কতাঃ

যদি আপনি প্রতিদিন সকালে হাটার কথা ঠিক করে থাকেন, তাহলে রাত্রে অবশ্যই অবশ্যই সময় মত ঘুমিয়ে পড়ুন, এবং কম পক্ষে ছয় ঘন্টা ঘুমান। মনে রাখবেন, একটা ফ্রেস ঘুম আপনার সকালকে যেমন ফ্রেস করবে, তেমনি হাটাকেও সুবিধার করবে। আর যদি রাত্রে ঠিকমত না ঘুমান, তাহলে সকাল সকাল হাটতে বের হওয়া ঠিক হবে না, এতে দুর্বল অনুভব করতে পারেন, এবং যে কোন রকম দুর্ঘটনার হাতে পড়তে পারেন।

হাটার জন্য অবশ্যই ভালো কোন জুতা ব্যবহার করা বাঞ্চনিয়। সাধারণ মানের স্পঞ্জ স্যান্ডেল বা চামড়ার স্যান্ডেল পরে হাটবেন না। এতে করে পায়ের তলা থেকে শুরু করে সারা দেহে ব্যাথা হতে পারে। এক্ষেত্রে একবার কষ্ট করে একটি ভালো মানের হাটার উপযোগী জুতা কিনে নিতে পারেন। প্রচুর পানি রাখবেন, এবং পান করবেন। তা না হলে যে কোন সময় দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন।

হাটবার সময় উচুঁ নিচু জায়গা এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ উচুঁ নিচু জায়গায় হঠাৎ পা পড়ে পা মচকে যেতে পারে বা ব্যাথা পেতে পারেন। এক নাগাড়ে দ্রুত হাটতেই থাকবেন না। শুরুটা করুন আস্তে আস্তে, কখনো দ্রুত, আবার মাঝে মধ্যে একটু আস্তে হাটুন। এতে করে স্বাসপ্রশ্বাসে সুবিধা হবে, দেহ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে না।

হাটবার সময় রাস্তার সকল গাড়ির প্রতি লক্ষ্য রাখুন, গাড়ি চাপা পড়বেন না দয়া করে। আর যখন আস্তে হাটবেন, তখন লক্ষ্য রাখুন আপনি যেন অন্য কারও বিরক্তির কারণ না হয়ে দাড়ান।

আর নিয়মিত গোসলটা অবশ্যই করবেন। আরও পড়ুনঃ প্রতিদিন গোসলের উপকারীতা

বাড়বেন যেভাবেঃ

এভাবে অভ্যাস করতে করতে একসময় আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে কতটুকু হাটা প্রয়োজন, কতটুকু হাটলে আপনার সুবিধা হবে। জোর খাটিয়ে প্রথম থেকেই বেশী হাটবেন না। এতে কয়েক দিনের মধ্যে দুর্বল হয়ে হাটা ছেড়ে দিতে পারেন, যা হিতে বিপরীত হবে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে গোল নির্ধারণ করেন, এবং সেটা পূরণ করেন। সপ্তাহে ৫-১০ মিনিটের বেশী সময় বাড়াবেন না।

এভাবে বাড়াতে বাড়াতে এক সময় আপনি দিনে ১০,০০০ পা হাটা অভ্যাস করে ফেলতে পারবেন, এবং ততদিনে আপনার শরীর হয়ে উঠবে ঝরঝরে।

আরও যা করণীয়ঃ

অফিস/ভার্সিটি/কলেজ/স্কুল থেকে ফিরবার পথে বাসা থেকে একটি বা দুটি স্টপেজ আগেই বাস থেকে নেমে পড়ুন, হাটা শুরু করুন। ৪-৫-৬ তালা বাসায় থাকলে লিফটে না চড়ে হেটে উঠুন। তেল এবং ভাজা পোড়া জাতীয় জিনিষ কম করে খাবেন। রাত্রে ঘুমাতে যাবার আগে একটু হাটাহাটি করে নিতে পারেন।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য