ফিটনেস রক্ষার্থে ১০টি সহজ টিপস শেয়ার করবো আজকে। এই টিপস গুলি আপনারকে বাড়তি কোন কষ্ট বা সময় দেওয়া ছাড়াই শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে। এমনকি বাড়াবে কর্মস্পৃহাও। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? আসুন তাহলে জেনে নেই ফিটনেস রক্ষার্থে ১০টি সহজ টিপস।

১. স্থীর না থেকে নড়াচড়া করুনঃ

হয়ত আপনি ফোনে কথা বলছেন, কিংবা বন্ধুবান্ধবের সাথে রাস্তায় দাড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছেন, কিংবা কোন একটি ট্রেনিং সেশনে ট্রেনিং দিচ্ছেন, কিংবা কোথাও ক্লাস নিচ্ছেন; যাই হোক না কেন কাজ, এক স্থানে দাড়িয়ে থাকবেন না। হাঁটাহাটি করতে করতে কাজ করুন। বিশেষ করে ফোনে কথা বলতে বলতে এক স্থানে দাড়িয়ে না থেকে বা বসে না থেকে হাটতে হাটতে কথা বলুন। এতে শরীর সব সময় ঝরঝরে ভাব ধরে রাখতে পারবে।

২. সিড়ি ব্যবহার করুনঃ

বর্তমানে শহরের বাড়ি, মার্কেট এবং অফিস গুলিতে লিফটের প্রাপ্যতা প্রচুর। কিন্তু আপনি যদি কয়েক তালা উপরেই উঠতে চান, তাহলে লিফট ব্যবহার না করে হেটেই উঠে যান। হয়ত আপনার ফ্লাট ৪র্থ তালায়, আপনার বাবুদের সাথে খুনসুটি করতে করতে উঠে যান না সিড়ি দিয়ে। সিড়ি দিয়ে ওঠা হৃদপিন্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, আপনার শরীরের ক্যালরী পোড়ায় এবং আপনার দেহের নিন্ম ভাগের অংশকে ঠিক রাখতে সহায়তা করে। তাই সুযোগ পেলেই সিড়ি হাত ছাড়া করবেন না; ২/৪/৫ তালা তো এমনিতেই হেটে ওঠা যায়।

৩. একটি/দুটি স্টপেজ আগেই গাড়ি থেকে নামুনঃ

অফিস থেকে বাড়িতে ফিরবার সময় একটি বা দুটি স্টপেজ আগেই বাস/গাড়ি থেকে নেমে পড়ুন না; এতে করে আপনি কিছুদূর হাটবার সময় এবং সুযোগ পাবেন। সারাদিন কাজ শেষে হেটে ফিরলে আপাতদৃষ্টিতে ক্লান্ত লাগতে পারে; কিন্তু মূলত এটি আপনাকে সারাদিনের বসে বসে কাজ করে দেহে যে জড়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে সহায়তা করবে। তাই ৩০০ মিটার থেকে ৭০০মিটার আগে নেমে যেতে পারলে দারুন একটি ব্যায়ম হয়ে যাবে আপনার।

৪. ফোন বা চিৎকার নয়, সামনা সামনি হোনঃ

প্রযুক্তির কল্যানে এই অফিসে একটু দূরে বসা কলিগকেও এখন আমরা পিএবিএক্স এর মাধ্যে কল করে কথা বলি; কিংবা বাসায় ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন কাজে বলতে বা খেতে ডাকতে আমরা জোরে চিৎকার করে কথা বলি। এই অভ্যাসটি ছাড়ুন, হেটে চলে যান তার সামনে যার সাথে কথা বলতে চান। কথাটি মুখমুখি বলতে গেলে আপনাকে হাঁটতে হবে, আর এটিই আপনার জন্য আশির্বাদ স্বরূপ কাজ করবে। দেহের জড়তা কাটাবে, ক্যালোরী পোড়াবে, প্রশান্তি আনবে।

৫. ঘরগৃহস্থলির কাজ একটু বাড়িয়ে দিনঃ

সব কিছু কাজের লোককে দিয়ে না করিয়ে নিজেও মাঝে মধ্যে একটু হাত লাগান। আমরা আপনাকে উবু হয়ে বসে ঘর মুছতে বলছি না; বলছি ঘরের টুকি টাকি কাজ কর্ম করতে, যাতে আপনার দেহের মাংসপেশী গুলি সব সময় রিলাক্সড অবস্থায় থাকে। মনে রাখবেন, আপনি চাইলে শুয়ে বসে থেকে কাজের লোককে দিয়ে হুকুম করে সব কিছু করাতে পারবেন ঠিকই; কিন্তু এক সময় বাত আপনাকে জেঁকে বসে আর কিছুই করতে দিবে না।

৬. পরিবারের সাথে আরও সময় কাটানঃ

একটু খটকা লাগতে পারে যে পরিবারের সাথে সময় কাটানো কি করে ফিটনেসের অংশ হতে পারে; কিন্তু আসলেই তা পারে। ছেলে-মেয়েদের সাথে লুকোচুরি খেলা, বাড়ির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলা, কিংবা মজা করে দড়িলাফ খেলাই আপনাকে দিতে পারে বাড়তি ব্যয়ম, যা করতে করতে আপনি পরিবারের সাথে যেমন মজার একটি সময় কাটাবেন, তেমনি আপনার মনও থাকবে প্রফুল্ল। বাচ্চাদের স্কুলে হেঁটে পৌছে দেওয়া, সাইকেল নিয়ে এদিক ওদিক ঘোরাও হতে পারে এর অংশ।

৭. যথেষ্ট পানি পান করুনঃ

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২লিটার বা তার কিছু বেশী পরিমান পানি পান করা প্রয়োজন। আবার আমাদের দেহের প্রায় ৭৫%ই পানি; আর এর সামঞ্জস্য বজায় রাখু জরুরী। আর তাই আপনারও উচিৎ কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিয়ম করে পানি পান করা। এতে দেহ পানিশুণ্যতায় ভুগবে না, এবং আপনি দুর্বলতায় ভুগবেন না। আর এই পানি মাঝে মধ্যে ঠান্ডা করে পান করুন; ঠান্ডা পানিকে সাধারণ তাপমাত্রায় আনতে দেহ একটু কাজ করবে, আর তাতেই পুড়বে ক্যালরী। কিন্তু তাই বলে প্রচুর পরিমানে শুধু ঠান্ডা পানিই পান করতে থাকবেন যেন যেন, তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

৮. একটু ঝাল জাতীয় খাবার খানঃ

খাবারের মধ্যে শুধু মিষ্টি জাতীয় খাবার না রেখে ঝাল জাতীয় খাবারও রাখুন। দু-একটি আইটেমে একটু বেশীই ঝাল দিন। কিন্তু এটাকে আবার মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে নিবেন না। ঝাল খাবার দেহের ক্যালরী দ্রুত পোড়ায় এবং আপনাকে পিপাসার্ত করে তুলে। ফলে আপনি প্রথমত কম খাবার খাবেন, বেশী পানি পান করবেন। আর সাথে সাথে যদি একটু ঠান্ডা পানি পান করেন, তাহলেতো বোনাস হিসাবে পুড়বে বাড়তি ক্যালরী।

৯. সঠিক খাবার খানঃ

ইদানিং কালে সারাবিশ্বের সাথে সাথে আমাদের দেশেও ওজন বাড়বার জন্য অন্যতম দায় পড়ে ফাষ্টফুডের ঘাড়ে গিয়ে। ফাষ্টফুড গুলি তৈরীই হয় এমন ভাবে যাতে থাকে বাড়তি ফ্যাট, এবং আমাদের খাবার আগ্রহ বাড়ায়। ফলে আমাদের দেহের ওজন বাড়ছে। তাই খাবার তালিকা থেকে ফাষ্টফুড, কোল্ডড্রিংস, অতিরিক্ত মশলাদার খাবার, অতিরিক্ত তেলের খাবার ইত্যাদি বাদ দিন। এগুলির পরিবর্তে ফল, আসল ফলের জুস, অল্প মশলায় তৈরী খাবার খেতে পারেন।

১০. একটু ওজন বয়ে বেড়ানঃ

সামান্য ওজন আমরা চাইলেই বয়ে বেড়াতে পারি; তার মনে এই নয় যে আমরা বলছি আপনি ওয়েট লিফটিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে যান! আমরা বলছি সামান্য কিছু ওজন বয়ে বেড়াতে। যেমন বাচ্চার স্কুলের ব্যাগ, বাজার করে বাজার হাতে নিয়ে ফেরা, সুপার স্টোরে ট্রলি না ঠেলে হাতে কিছু মাল পত্র নিয়ে কিছু সময় হাঁটা, খাবার টেবিলের চেয়ারটাকে টেনে না সরিয়ে একটু উঁচু করে সরানো ইত্যাদি। আশাকরি বুঝতেই পারছেন আমরা কি বলতে চাচ্ছি।

শরীর ফিট রাখা যতটা সহজ, ততটাই কঠিন; সবই নির্ভর করে আপনার অভ্যাসের উপরে। আপনি চাইলে নিজেকে ফিট রাখতে পারেন, চাইলে নিজের অবস্থার অবনতি ঘটাতে পারেন। এর জন্য দরকার একটু সচেতনতা, একটু কষ্ট করে কিছু নিয়ম মানা। আর বাকিটাতো দেখতেই পারবেন।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য