ফিচারটি পড়ুন : আপনি যদি জানেন কিভাবে রিল্যাক্স করতে হয় ও  জীবনকে উপভোগ করতে হয় তাহলে জীবন খুবই সুন্দর। জীবনে যখন যে সুযোগ আসবে তা যদি ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন তাহলেই জীবনকে পরিপূর্ণ করা যায়। আপনার জীবন তো একটাই, তাই একে পুরোপুরি ব্যবহার করুন। যদিও জীবনে নানা ধরণের সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় এবং বিভিন্ন রকম স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হয়। এই সমসাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনার চারপাশে ইতিবাচকতা রক্ষা করা এবং মানুষকে ভালোবাসা। কিন্তু সমস্যার সমাধানের জন্য আরো গভীরভাবে যুক্তি দিয়ে কিছু যিনিস বিচার করা প্রয়োজন, তা জানার জন্য এই ফিচারটি পড়ুন।

আপনার শরীর প্রাকৃতিক স্ব-মেরামত প্রক্রিয়ার জন্য খুব সুন্দর ভাবে সাজানো আছে যা প্রভাবিত হয় আপনার চিন্তার ধারা, অনুভূতি এবং আপনার বিশ্বাসের দ্বারা। শরীর জানে কিভাবে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে হয়, ভাঙ্গা প্রোটিনকে কিভাবে ঠিক করতে হয়, বয়স বৃদ্ধিকে কিভাবে ধীর করতে হয়, কিভাবে বিষ মুক্ত করতে হয়, ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করতে হয়, ফরেইন বডি থেকে কিভাবে মুক্ত থাকতে হয় এবং সর্বোপরি কিভাবে সার্বিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারেন আপনি। যখনই আপনার শরীরের স্ব-মেরামত প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয় তখনই আপনি রোগাক্রান্ত হন। কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে সেলফ রিপেয়ার মেকানিজম কে সক্রিয় করা যায়, যেমনঃ

পদক্ষেপ ১ঃ বিশ্বাস করুন নিজেই নিজেকে নিরাময় করা যায়

আপনি কি বিশ্বাস করেন না যে ইতিবাচক বিশ্বাসের মাধ্যমে দেহের নিরাময় সম্ভব? আবারও চিন্তা করে দেখুন! ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে যে মন শরীরকে নিরাময় দান করতে পারে। একেই প্লাসিবো ইফেক্ট বলে। উপসর্গের কারণ বিশ্লেষণ করে এবং বাস্তব শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে ১৮-৮০% রোগীদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে। যাদের চিনির ট্যাবলেট, স্যালাইন ইনজেকশন বা মিথ্যা অপারেশনের মাধ্যমে নিরাময় করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে যদি আপনি একবার বিশ্বাস করেন যে নিরাময় সম্ভব তাহলেই তা সম্ভব।

পদক্ষেপ ২ঃ

সঠিক সহায়তাটি খুঁজে নিনবৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণের দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে সত্য বিশ্বাসের পাশাপাশি সঠিক যত্নের ও প্রয়োজন আছে। আশাবাদী কেউ একজন যদি আপনার ইতিবাচক বিশ্বাসের অংশীদার হন, আপনার সত্যিকার পার্টনার হন, আপনার অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করেন, আপনার ভালো হওয়ার চিন্তা করেন এবং আপনাকে আশ্বস্ত করেন যে আপনার স্ব-নিরাময়ের যাত্রায় আপনি একা নন তাহলে এই প্রক্রিয়াটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

পদক্ষেপ ৩ঃ আপনার শরীরের অনুভূতির কথা শুনুন

আপনার শরীরের বিষয়ে আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ জানেনা, এমন কি আপনার ডাক্তার ও না। চিকিৎসক হয়তো আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে ভালো জানেন। কিন্তু আপনার জন্য কোনটা ভালো তা শুধু আপনিই ভালো বলতে পারবেন, তাই আপনার শরীর ও মন কি বলছে তা উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। আপনার মনের অনুভূতি টের পাচ্ছেন না? তাহলে শরীরের কথা শুনুন কারণ এটি মনের বাহন। যার মাধ্যমে আপনার অনুভূতি আপনার সাথে কথা বলে। যদি আপনার শরীরে শারীরিক কোন সংবেদন হয়- ব্যথা, আঁটসাঁট অনুভব করা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ইত্যাদি অনুভূতি হয় তাহলে আপনার শরীরকে জিজ্ঞেস করুন সে কী বোঝাতে চাইছে? তারপর শুনুন! এটাই আপনার প্রজ্ঞা যা আপনাকে সত্যের দিকে পরিচালিত করে।

পদক্ষেপ ৪ঃ আপনার অসুস্থতার কারণ নির্ণয় করুন

ডাক্তার হয়তো আপনাকে কিছু শারীরিক পরীক্ষা দিবেন। কিন্তু এখানে সেই পরীক্ষার কথাই বলা হচ্ছে যা আপনার রোগের মূল কারণ। যা আপনার শরীরের স্ব-নিরাময় প্রক্রিয়াকে অকার্যকর করে দিচ্ছে এবং স্ট্রেস বৃদ্ধি করছে। পরিণতিতে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আপনার জীবনের কোন দিকটি আপনার মানসিক চাপকে সক্রিয় করে তুলে? চিত্তবিনোদনের প্রতিক্রিয়ার বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন- সৃজনশীল কার্যক্রম, হাসি, করতে ভালোবাসেন এমন কাজ, ম্যাসেজ, ইয়োগা বা পোষা প্রাণীর সাথে খেলা করা ইত্যাদি কাজগুলো কি আপনি করেন? অসুস্থতা আপনাকে জাগানোর আহবান। আপনি এর স্বীকার হতে পারেন আর নয়তো সতর্কতার একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন।

পদক্ষেপ ৫ঃ নিজের জন্য প্রেসক্রিপশন নিজেই লিখুন

এটি একটি স্ব-নির্দেশিত কর্ম পরিকল্পনা যা আপনাকে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে। তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, নিরাময়ের জন্য আপনার শরীরের কী প্রয়োজন? আপনার এই প্রেসক্রিপশনে থাকবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ব্যায়াম ও প্রচলিত চিকিৎসার পরিকল্পনা। এর সাথে আরো যুক্ত হতে পারে- বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা, অপছন্দনীয় চাকরি ছেড়ে দেয়া, ধ্যান করা, ঋণ থেকে বেরিয়ে আসার পদক্ষেপ বা নিজের আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা।

পদক্ষেপ ৬ঃ আত্মসমর্পণ করুন

ইতিবাচক সকল পদক্ষেপ নেয়ার পর ও যদি আপনি অসুস্থ থাকেন তাহলে কি  আপনার কোন ভুল আছে? অবশ্যই না। অপরাধবোধ, দোষ বা লজ্জাজনক কোন কথা এই নিরাময় যাত্রাকে আরো বেশি চাপের মধ্যে ফেলে এবং শরীরের ক্ষতি করে। কিছু রোগী সবকিছুই সঠিকভাবে করে এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপশম লাভ করে। আবার এমন কিছু রোগী আছেন যারা অসুস্থই থেকে যান। কিন্তু কেন এটি হয়? এর একমাত্র উত্তর হচ্ছে আধ্যাত্মিক বা স্পিরিচুয়াল কারণ। এর উপর আপনার কোন হাত নেই। তাই ফলাফলের উপর আত্মসমর্পণই একমাত্র পন্থা।

সর্বোপরি এটাই বলা যায় যে, এই ৬টি পদক্ষেপ যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে আপনার সাধ্যের মধ্যে যা কিছু করার ছিলো আপনি তা করেছেন, আর বাকীটা আপনার নিয়ন্ত্রণে  নেই। সুতরাং গভীরভাবে শ্বাস নিন, মহাবিশ্বের প্রতি বিশ্বাস রাখুন এবং চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

তো পাঠক, এই ছিলো আজকের আয়োজন। রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য