সুস্বাস্থ্য

সুস্বাস্থ্য আমাদের সবার কাম্য। কেননা স্বাস্থই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মনও ভালো থাকে। স্বাস্থ্য খারাপ হলে না মন ভালো থাকে, না কোনো কাজে মন বসে। একটি আর একটির সাথে ওতপ্রত ভাবে জড়িত। আবার এ স্বাস্থ্যই যদি প্রয়োজনেরচে’ বেশি হয় তখন দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা। অল্পতেই চলে আসে ক্লান্তি। আর স্বাস্থ্য বাড়ার সাথে সাথে দেখা দেয় আরেক সমস্যা তা হলো মেদ, চর্বি! কয়েক বছর আগের জামাও দেখা যায় শরীরে আনফিট। এগুলা থেকে মুক্তির জন্য, ফিট থাকার জন্য যদিও আমরা ডায়েট চার্ট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি ; আর সেটা দু’ দিন করে তিন দিনের দিন অনুসরণ করা হয়ে উঠেনা। সেই ফার্স্ট ফুড, তৈল জাতীয় খাবার দেখলে লোভ সামলানো দায় হয়ে দাঁড়ায়! তবুও নিজেকে ফিট, স্লিম দেখার জন্য এসব লোভ গুলো কে বিসর্জন দেয়াটা জরুরী। পাশাপাশি কিছু ইন্সট্রাকশন ফলো করলেই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায়। এবং নিজেকে ফিট করে তোলা যায়। নিচে কিছু উপায় দেয়া হলোঃ

১. আপনার স্লিম ছবি তৈরী করুনঃ

সর্ব প্রথম যেটা করা উচিত তা হলো নিজের সবচে’ স্লিম ছবিটা ফ্রেমে করে নিজের রুমের এমন জায়গায় রাখা যেন সহজেই চোখে পড়ে। এতে করে মনের মধ্যে একটা দৃঢ়তা আসে। একটা আত্মবিশ্বাস আসে চাইলে এবং চেষ্টা করলে ঠিক স্লিম ও ফিট হওয়া যায়। এটা আসলে মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের জন্য।

২. সুস্বাস্থ্য পেতে গ্রীণ টি পান করুনঃ

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগ মুহূর্তে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করে গ্রীণ টি পান করা যায়। এতে শরীরের মেটাবলিক ও ঠিক থাকে ঘুমের সময় ও ক্যাফেইনের পরিমাণও অতি নগণ্য। এটাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট। যা রাখবে শরীরকে তারুণ্যসুলভ।

৩. সুস্বাস্থ্য পেতে হাটাহাটি ও সকালের খাওয়াঃ

প্রতিদিন সকালবেলা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটার পর বাসায় এসে নাস্তা করা। অতিরিক্ত খাবার যেমন ওজন বাড়ার সহায়ক ঠিক তেমনই স্বল্পতায় শরীর দুর্বল হয়। আর তাই হাঁটার পর বাসায় ফিরেই নাস্তা করে নিতে হবে। খুব ব্যস্ততা বা ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে কয়েক টুকরো ফ্রুটস এবং কাজু বাদাম খেয়ে নিলেও হবে। সুস্বাস্থ্যতার জন্য সকালের খাবার বেশ জরুরী

৪. ওজন বৃদ্ধিকারক খাবার বাদ দিনঃ

ক্যাফেইন, বিশোধিত চিনি, অ্যালকোহল, অতি মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো ফিট থাকার জন্য প্রাত্যহিক খাবার তালিক থেকে ত্যাগ করতে হবে। ওজন বৃদ্ধিতে এগুলোর অবদানের শেষ নাই!

৫. সুস্বাস্থ্য এর জন্য বাদাম খানঃ

কাজু বাদাম উপকারী তবে রোস্টেড ও সল্টেড বাদাম খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ প্যাকেটজাত বাদাম খাওয়া মানেই ওজন বৃদ্ধি করা। তাই এগুলা থেকে দূরে থাকা উচিত।

৬. শসা খানঃ

সারাদিনই দেখা যায় এটা ওটা খেতে থাকি। আর এসব খাবারের মধ্যে শসাটাও কেও রাখা দরকার। যত খুশি খাওয়া যায়। শসা ডায়েটের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। এর ফলে ফ্যাট অনেকাংশ কমে যায়।

৭. ইসূবগুলের ভূষিঃ

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানির সাথে ১ চামচ ইসুবগুলের ভূষি মিশিয়ে খেতে হবে। এর ফলে ঘুম ভালো হয় এবং শরীর সতেজ থাকে। এটি ওজন কমাতেও সহায়ক।

৮. লবণ খাওয়ায় সাবধানঃ

ভাতের সাথে লবণ খাওয়াটা একেবারেই অনুচিত। সোডিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই লবণের পরিবর্তে বিট লবণ খাওয়া যেতে পারে। এতে করে ডায়েট এও কোনো সমস্যা হয়না এবং শরীর থাকে ফিট।

৯. প্রাণ খুলে হাসুনঃ

স্বাস্থ ভালো রাখা ও ফিট থাকার আরেক টি উপায় হলো হাসিখুশি থাকা। হাসিখুশি থাকলে দেহ ও মন ও ভালো থাকে এবং উচ্চস্বরে হাসি ওজন কমাতেও সহায়তা করে। এর ফলে ক্যালরি কমে।

১০. রাত্রের খাবারঃ

অধিক রাতে খাবার খেলে তা অবশ্যই সব সময় হালকা খাবার হওয়া উচিত। সবচে’ ভালো হয় রাতের খাবার ৮ টার মধ্যে শেষ করা।

আপনি যদি ইতিমধ্যেই কোন ডায়েট চার্ট অনুসরণ করে থাকেন; তাহলে জানেন তা আসলে বেশীদিন অনুসরণ করা কতটা কঠিন। কিন্তু এখানে বর্ণিত সকল জিনিষই আমরা খুব সহজেই আয়ত্ব করতে পারি। তাই, দেরী না করে এখন থেকেই এগুলি চর্চা শুরু করে দিন; আর হয়ে উঠুন সুস্বাস্থ্য এর অধীকারী।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য