সুস্থ্য সুন্দর গর্ভাবস্থার জন্য করণীয় ১০ টি বিষয় নিয়ে আজকের সম্পূর্ণার আয়োজন। প্রত্যেক নারীই একটি সুখী ও সুস্থ্য গর্ভাবস্থা আশা করেন। কিন্তু এর জন্য আপনাকে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম, আর তা হলেই আপনি পেতে পারেন একটি সুস্থ্য গর্ভাবস্থা। তাহলে আসুন, জনে নেই সেই টিপস গুলিঃ

১. যথেষ্ট পরিমানে খাবার খানঃ

গর্ভাবস্থা এমন একটি সময়, যখন আপনি শুধু নিজের জন্যই খান না, সাথে সাথে আপনার অনাগত সন্তানের জন্যও খান। আর তাই, আপনাকে খাওয়ার বিষয়ে অনিহা করলে একেবারেই চলবে না। যত কষ্টই হোক, আপনাকে নিয়ম মেনে খেতে হবে। আর আপনার পরিবারের সবার সাহায্য লাগবে এ ক্ষেত্রে। তাদেরও সচেতন করে তুলতে হবে। ডাক্তারের দেওয়া বিধি নিষেধ মেনে খেতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় কেউ কেউ চরম মাত্রায় অরুচিতে ভুগেন, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে এবং প্রয়োজনে তিনবারের খাওয়া ভেঙ্গে ভেঙ্গে পাঁচ-ছবারে খেতে হবে।

২. প্রচুর পানি এবং পানীয় পান করতে হবেঃ

আপনাকে পানি পানে যত্নবান হতে হবে, সাথে সাথে ফলের জুস খেতে হবে। তবে এ সময়ে খাবার রং দেওয়া খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকাই ভালো, হোক সে যত ভালো কম্পানিরই। কফি, মদ এবং এনার্জি ড্রিংস থেকে দূরে থাকা বাঞ্চনিয়, সাথে সাথে ধূমপান থেকেও বিরত থাকতে হবে। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি এবং জুস খাওয়া উচিৎ।

৩. ব্যায়ম করতে হবে নিয়মিতঃ

আপনার গর্ভাবস্থায় হালকা ব্যায়ম আপনাকে করতেই হবে, না হলে দেহে পানি জমা, বাত ও অন্যান্য সমস্যা শুরু হয়ে যেতে পারে। নিয়ম মত হাটাহাটি করা, একটু হালকা ব্যায়ম করা উচিৎ। তবে ভারী কোন ব্যায়ম বা ডায়েট কন্ট্রোল কিংবা মেদ কমানোর জন্য ভারী কাজ করবেন না।

৪. যখন পারুন বিশ্রাম নিনঃ

আপনাকে ব্যায়ম করতে বলা হয়েছে বলে সারাক্ষণ হাটাহাটি করতে থাকবেন না। সময় মত বিশ্রামও নিতে হবে। আমাদের দেহ সারাক্ষণ কোন না কোন কাজ করতে থাকে। আপনি যখন বিশ্রাম করেন, তখন আপনার দেহ কিছু কাজ বাদ দিয়ে শিশুর সুগঠনের দিকে এবং আপনার সকল কষ্ট নিরসনে কাজ করে।

৫. পোশাক পরিধানে সচেতন হোনঃ

গর্ভাবস্থায় পোশাক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসময় ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো। পেটের কাছে চাপ পড়ে এমন পোশাক থেকে দূরে থাকা উচিৎ। বিশেষ করে মাজা/কোমরে বেল্ট ব্যবহার করা থেকে সাবধানে থাকতে হবে। কোন কারণে যদি পিঠে ব্যাথ্যা (ব্যাক পেইন) এর জন্য পিঠে বেল্ট পরতে হয়, লক্ষ্য রাখবেন যেন তা পেটে কোন রকম চাপ সৃষ্টি না করে। আবার গাড়িতে বসলে সিট বেল্ট বাঁধতে ভুলবেন না; কেননা গাড়ির সিট বেল্ট আপনাকে বাড়তি চাপ প্রয়োগ না করেই ধরে রাখতে সহায়তা করে।

সুস্থ্য , সুন্দর ও ফর্সা বাচ্চা পেতে গর্ভকালীন কিছু খাবার

৬. সুখ চিন্তা মাথায় রাখুনঃ

অনেক সময়ই হবু মায়েরা গর্ভাবস্থায় নিজের সন্তানকে নিয়ে এত বেশিই চিন্তা করেন যে তারা ভয় পেয়ে যান। এ সময়ে অনেকেই সন্তান সম্পর্কে আজগুইবি কথাও বলেন। তাই পেটের সন্তানকে নিয়ে কখনওই অতিরিক্ত ভাববেন না। আপনার সন্তান আপনার কাছেই আছে, সুস্থ্য, স্বাভাবিক, ভালো আছে।

৭. প্রশ্ন করতে দ্বিধাবোধ করবেন নাঃ

অনেকেই লজ্জায় কিংবা সংকোচে ডাক্তারের কাছে অনেক কথা গোপন করে ফেলেন, কিংবা প্রশ্ন করতে পারেন না। আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, এটা আপনার এবং আপনার অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের বিষয়। তাই কোন সমস্যা হলে তা জানতে ডাক্তারকে প্রশ্ন করতে একদমই ভুল করবেন না। লজ্জা বা সংকোচ আপনারই জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।

৮. গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানুনঃ

হ্যাঁ, এ সময় আপনাকে গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। এর জন্য আপনার বন্ধবী, যারা ইতিমধ্যেই সন্তান নিয়েছেন, তাদের সাথে কথা বলতে হবে। তবে কিছু মানুষ পাবেন, যারা সব সময় ভয়ঙ্কর কথা বলেন। তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে, যতটা সম্ভব। ভয় পাওয়া যাবে না। এমন নয় যে পৃথিবীতে আপনিই প্রথম গর্ভধারণ করেছেন। তাই ভয় পাবার কিছুই নেই।

৯. প্রস্তুত থাকুন, সব সময়ঃ

একদম শেষের সময় গুলিতে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে বেশি বেশি করে। আপনাকে আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে যে ঘরে নাকি হাসপাতালে ডেলিভারী করাবেন। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। ঘরে ডেলিভারী করালেও এম্বুলেন্স এবং হসপিটালের নম্বর নিয়ে রাখবেন, যে কোন সমস্যা হলে যাতে দ্রুত সম্ভব হসপিটালে যাওয়া সম্ভব হয়।

১০. হাসতে থাকুনঃ

একটু অবাক হতেই পারেন এই টিপসটি দেখে। কিন্তু হ্যাঁ, আপনার হাসি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যতটা মুখ গোমড়া করে থাকবেন, ততটাই আপনার উপর চিন্তা, ভয়, অসুস্থতা ভর করবে। কিন্তু হাসি মুখে থাকলে আপনার আসেপাশের পরিবেশও থাকবে হাসি মুখের।

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিন গুলির কিছু দিন। এই সময়টাতে একটু সাবধানতাই আপনাকে দিতে পারে নিশ্চিন্তে থাকবার আশ্বাস। দিনগুলিকে মনে রাখার মত করে ফেলুন। আপনার সঙ্গীর (বর) সাথে ছবি তুলুন। উপোভোগ করুন সময়টি।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য