আমার বাবুর ঠিক কতটুকু সময় ঘুমানো দরকার? আমাদের কাছে এমনই এক প্রশ্নের জবাব নিয়ে হাজির হয়েছি আজকে। আজকের সম্পূর্ণায় আমরা দেখবো বয়স অনুযায়ী বাচ্চার কতটুকু ঘুমানো দরকার, কিভাবে বুঝবো বাচ্চার ঘুম ঠিক মত হচ্ছে কি না, কিভাবে ঘুম পরিপূর্ণ করা যায় তার উপর কিছু আলোচনা ও টিপস। তাহলে আসুন শুরু করা যাক।

বাচ্চার কতটুকু ঘুম দরকারঃ

একটি বাচ্চা হবার পর তার দেহের, মস্তিস্কের, ব্রেন এবং অন্য সব কিছুর সঠিক গঠন এবং পরিচালনার জন্য প্রথম থেকেই প্রচুর ঘুম দরকার হয়। একটু ঘুমের সমস্যাই আপনার বাবুকে ফেলে দিতে পারে নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুকিতে। তাই আপনার বাচ্চা নিচের চার্টের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঘুমায় কিনা লক্ষ্য রাখুন।

কিভাবে বুঝবেন আপনার বাবু কম ঘুমাচ্ছেঃ

অনেক ক্ষেত্রেই যখন বাবুরা কম ঘুমাতে থেকে, কিংবা ঘুমাতে চায় না, তখন বাবা-মায়েরা চিন্তা করেন যে হয়ত তার এত ঘুম দরকার নাই। কিন্তু আসলে এসব ক্ষেত্রে হয় উল্টোটা; বাচ্চার ঘুম দরকার, কিন্তু কোন কারণে ঘুমাতে পারছে না। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন যে আসলেই আপনার বাচ্চা ঘুমের সমস্যায় ভুগছে? নিজেকে নিচের প্রশ্ন গুলি করুনঃ

  • গাড়ির ভিতরে ঢোকার সাথে সাথেই কি বাবু ঘুমিয়ে পড়ে?
  • প্রতিদিন সকালে কি আপনার বাবুকে অনেক ডেকে ঘুম থেকে তুলতে হয়?
  • আপনার বাবু কি একটু খিটখিটে মেজাজের হয়ে গেছে?
  • বাবু কি দিনের বেলায় অনেক ক্লান্ত থাকে?
  • রাত্রে কি সাধারণ ঘুমানোর সময় হবার আগেই বাবু ঘুমিয়ে পড়ে?

যদি উপরের প্রশ্ন গুলির উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে বুঝবেন আসলে আপনার বাবু ঘুমের অভাবে ভুগছে। আপনাকে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে আপনার বাবু ঠিক মত এবং যথেষ্ট সময় ঘুমাতে পারে।

যেভাবে বাচ্চাকে ঘুম পাড়াবেনঃ

আপনার বাচ্চা যদি ঠিক মত না ঘুমায়, তবে আপনাকে ব্যবস্থা নিতে হবে দ্রুতই। তাই নিচের পদ্ধতি গুলি অনুসরণ করতে পারেন। তবে নিচের পদ্ধতিগুলি সাধারণত বাচ্চার বয়স দেড় মাস বা তার বেশী হলে কাজ দেয়।

  • প্রথমে বাচ্চার ঘুমানোর পরিবেশ সৃষ্টি করুনঃ ঘুমের জন্য দরকার সঠিক ঘুমের পরিবেশ। সবাই নিশ্চুপ নিরিবিলি পরিবেশে ঘুমাতে পছন্দ করে; বাচ্চারাও তার ব্যাতিক্রম নয়। তাই আপনার বাসার ভিতরের পরিবেশ যদি শব্দময় হয়, তাহলে বাচ্চার ঘুমাতে যথেষ্টই সমস্যা হয়। তাই বাচ্চার ঘুমের জন্য তার আশেপাশের পরিবেশ ঠিক করুন, শব্দ না রাখতে পারলেই ভালো।
  • ঘরে পর্যপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুনঃ বাচ্চা যে ঘরে ঘুমায়, সে ঘরের দরজা জানালা সব এঁটে দিয়ে রাখবেন না; এতে করে বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। ঘরে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করুন।
  • একটি নির্দিষ্ট ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করুনঃ বাচ্চা একটু বড় হয়ে গেলেই তার জন্য একটি নির্দিষ্ট ঘুমের সময় নির্ধারণ করুন। প্রতিদিনই প্রায় একই সময়ে তাকে বিছানায় পাঠিয়ে দিন। এতে করে তার প্রতিদিনের একটি রুটিন তৈরী হয়ে যাবে, এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ঐ সময়েই বাচ্চার ঘুম বেশী আসবে।
  • বাচ্চার সাথে শুয়ে পড়ুনঃ যখন বাচ্চা বড় হতে থাকে এবং আপনাকে পরিপূর্ণ ভাবে চিনতে থাকে, তখন তার ঘুমের সময়ও তার কাছে থাকুন। তাকে নিয়ে শুয়ে পড়ে আস্তে আস্তে ঘুম পাড়িয়ে দিন। এতে করে সে নিজে যেমন প্রশান্তি পাবে যে আপনার কাছেই আছে, তেমনি তার ঘুমও দ্রুত আসবে।
  • নিরাপত্তার বস্তু দিনঃ যদি আপনি আপনার বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো অবস্থায় থাকেন এবং বাচ্চাকে আলাদা দোলনা/খাটে রাখেন (৬ মাসের বেশী বয়সের বাচ্চাকে আলাদা দোলনায় রাখা উচিৎ), তাহলে বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলে তার পাশে একটি পাতলা কাপড়ে সামান্য বুকের দুধ মিশিয়ে রেখে দিন। এতে করে হঠৎ ঘুম থেকে উঠে গেলেও সে মনে করবে তার মা তার পাশেই আছে, এবং সে অনেকটাই শান্ত থাকবে। বাচ্চাদের ঘ্রাণ শক্তি প্রচন্ড, এবং সাথে সাথে তারা প্রিয়জনের দূরে চলে যাওয়াটাও বুঝতে পারে। তাই এই পদ্ধিতে আপনি তার কাছেই থাকতে পারেন।
  • ঘুমানোর সময়ের আগে একটু খেলাধুলা করুনঃ বাচ্চা একটু বড় হলে যদি খেলার মত বয়স/মন হয়ে থাকে, তাহলে তার ঘুমানোর সময়ের একটু আগে তাকে নিয়ে খেলাধুলা করুন। তাতে তার মন ভালো থাকবে, সাথে সাথে ঘুমের সময় হতে না হতেই সে একটু ক্লান্ত অনুভব করে ঘুমিয়ে পড়বে। আর মন ভালো নিয়ে ঘুমাতে গেলে তার ঘুমও হবে পরিস্কার।
  • দিনের বেলায় সজাগ রাখুনঃ বাচ্চার বসয় ছয় (৬) মাসের বেশী হয়ে গেলেই তাকে দিনের বেলাতে বেশী জাগিয়ে রাখতে সচেষ্ট হোন। তার সাথে কথা বলে, তাকে নিয়ে একটু হেটে-চলে বেড়িয়ে, তাকে অন্যদের সাথে থাকতে দিয়ে ঘুম থেকে একটু দূরে রাখুন, আপনা-আপনিই সে রাত্রে ঘুমকাতুর হয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। তবে এটা আস্তে আস্তে অভ্যাস করাবেন; হঠাৎই করলে বাচ্চার উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

বাচ্চার জন্ম, তার বেড়ে ওঠা, তার জীবন, সবই সুন্দর সুখময় হতে পারে, যদি আপনি যথেষ্ট যত্ন নেন। যে কোন সমস্যায় ডাক্তারের কাছে সব খুলে বলুন; শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা বাচ্চাদের সম্পর্কে সাধারণত ভালোভাবে জেনে থাকেন, তাই তাদের পরামর্শ আমলে নিন।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য