শিশু জন্মের পর মায়ের বিশ্রাম নেবার কথাটাই যেন আকাশ কুসুম চিন্তা হয়ে যায়। নবজন্ম নেয়া শিশুকে নিয়ে দেখা যায় কমবেশি সকল মা-ই বিচলিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রথম মাস দেড়েক! সারাক্ষণ ঘুমের মধ্যে থাকা ছোট শিশুটি হঠাৎ করে জেগে মায়ের বুকের দুধ পান করে ঘুমিয়ে যায়। কখন যে আবার জেগে উঠে ঠিক নেই। দেখা যায় প্রতিটা সময় মা কে বাবু নিয়ে ব্যস্ত থাকা লাগে। এতে করে মা হয়ে যায় ক্লান্ত! কিন্তু মায়ের বিশ্রাম ছাড়া সুস্থ শিশু চিন্তা করাই কষ্টের। কারণ যেহেতু শিশু শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধের উপর নির্ভর করে, তাই মায়ের সুস্থতার উপর নির্ভর করে শিশুর সুস্থ্যতা। তাই আজ বেশ কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করবো যেখানে আমরা জানবো বাচ্চার সাথে কাটানো প্রথম মাসটা আরো বেশি ভালো ও আরামদায়ক কি করে করা যায়।

মায়ের বিশ্রাম ও বুকের দুধঃ

প্রথম কয়েকদিন শিশু কে সারাক্ষণ বুকের দুধ পান করাতে হবে। সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চার জন্যে মায়ের দুধের বিকল্প নাই। তবে বাচ্চাকে ব্রেস্টফিডিং এর সময় একেবারে নিজের প্রতি বেখেয়াল হলেও চলবে না। বাচ্চার পাশাপাশি মা কে নিজের প্রতি যত্ন নিতে হবে।

দুধ পান করানোর সময়ঃ

শিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্রেস্টফিডিং এর সময় বসে থাকতে থাকতে ক্লান্তি চলে আসে। তাই প্রতিবার খাওয়ানোর আগে এক গ্লাস পানি কিংবা একটা বই বা ম্যাগাজিন হাতে নিয়ে বসলে সময় টাও কেটে যায় আর মুখে ক্লান্তির ছাপ টাও পরেনা।

অধিক দুগ্ধক্ষরণঃ

অনেক সময় দুগ্ধ নালি ব্লক হয় কিংবা অধিক বের হতে থাকে। কিছু সময় বাবু যখন ঘুমিয়ে যায় তখন তো আর তা পান করানো যায় না ; তাই এটা রোধ করার জন্য উষ্ণ কাপড় বুকে দিয়ে রাখলে, মাইক্রোওয়েভে দিয়ে গরম করে বুকে ম্যাসেজ করলে তা কমে। যদি এর ফলেও না কমে তাহলে একেবারে ঠান্ডা তোয়ালে অল্প ক্ষণের জন্য কিংবা কল্ডপ্যাক লাগিয়ে রাখলেও কাজ হয়। এতে করে অধিক দুগ্ধ বের হওয়া কিংবা ফাঁটল দুটিই রোধ পায়।

মায়ের বিশ্রাম ও মা-বাচ্চার ঘুমঃ

ঘুমানোর সময়ঃ

বাচ্চারা নিশ্চয়ই সারাদিন ঘুমায় না। বেশিরভাগ বাবুই প্রায় ১৬ ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকে। আর বাকি যেটুকু সময় জাগে মা পাশেই থাকে। এতে করে ক্লান্তির পরিমাণ ও বেড়ে যায়। তাই সবচে’ ভালো হয় বাচ্চা কে নিয়ে জলদি শুয়ে পরলে। বাচ্চা যখন ঘুমাবে তখন নিজেরো কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়া হলো।

আরও পড়ুনঃ আমার বাবুর ঠিক কতটুকু সময় ঘুমানো দরকার?

শিফট করে নেয়াঃ

বেশিরভাগ সময় দেখা যায় বাচ্চারা রাতের বেলা জাগ্রত থাকে। এক্ষেত্রে বাবা ও মা দুজন শিফট করে নিলে মা ও কিছুটা বিশ্রাম পায়!

ঘুমানোর সময় বাচ্চা বিরক্ত করলেঃ

বাচ্চারা ঘুমানোর সময় দেখা যায় কান্নাকাটি করে কিংবা জ্বালাতন করে! এ ক্ষেত্রে বাচ্চাকে বুকে নিয়ে শুইলে এরা শান্ত হয় এবং বাচ্চার ঘুম যথেষ্ট আরামদায়ক হয়।

বাচ্চাকে শান্ত করানোঃ

প্রথম কয়েক সপ্তাহ বুঝাই যায় না বাচ্চা আসলে কি চায়! কিংবা একে কিভাবে শান্ত করা যাবে! তাই বাচ্চা ঠিক যেটা তে স্বস্তি অনুভব করে তাই করা উচিত। বাচ্চাকে দোলালে যদি শান্ত হয় তা করা যায়। অথবা যদি গান শুনলে চুপ হয় এটা করেও দেখা যায়।

মায়ের বিশ্রাম এ আরও করণীয়ঃ

বাবার সাহায্য নেয়াঃ

প্রেগন্যান্সিতে দেখা যায় বাবারা সব সময় কেয়ারিং হলেও বাচ্চা জন্মের পর তারা সংকুচিত হয়ে যায়। ছোট বাচ্চা কোলে নিতেও তারা অস্বস্তিবোধ করে। তাই বাবা যখন কোলে নিবে তাকে নিষেধ না করে সে যেভাবে নিচ্ছে নিক। সে যদি খেলতে চায় বাচ্চাকে নিয়ে খেলুক। অফিস করে এসে সে যদি বাচ্চা কে নিয়ে মেতে থাকতে চায় মাতুক। এতে করে মাও অনেকটা বিশ্রাম পাবে এবং বাচ্চার সাথে ছোট থেকে বাবার সম্পর্কটা হয়ে উঠবে অনেক বেশি বন্ধুত্বসুলভ।

বাহিরে বের হওয়াঃ

অল্প সময়ের জন্য হলেও বাচ্চাকে নিয়ে বাহিরে বের হওয়া দরকার। এতে করে মা নিজেও কমফর্ট অনুভব করবে। বাচ্চা বাহিরের সাথে অভ্যস্ত হবে। বের হওয়ার সময় অবশ্যই সাথে ডায়পার রাখা দরকার।

এই বিষয়গুলো অতি সামান্য আর এ সময় টার মধ্য দিয়ে প্রতিটা মাকেই যেতে হয়। তবে এ বিষয়গুলো ফলো করলে বাচ্চার মুখেও হাসি ফোটে ; মা এর চেহারা থেকেও ক্লান্তির ছাপ দূর হয়।

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য