গর্ভবতী মা এর গর্ভধারণ হচ্ছে তার জীবনে সবচে’ সুন্দর ও সুখকর মুহূর্ত হচ্ছে তার গর্ভাবস্থা। এঅবস্থায় শুধু একজন নারীর বহিরাগত বা আকারেরই পরিবর্তন হয়না; গর্ভবতী মায়ের মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটে। এ সময় গর্ভবতী মা ও শিশু দুজনের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা ভাবা সবার আগে জরুরী। দেখা যায় নানান জটিলতা দেখা দেয় গর্ভাবস্থায়। তাই এ জটিলতা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য এবং মা ও শিশু উভয়ের যে কাজ বা খাবার এর জন্য ক্ষতি হয় তার একটা চার্ট দেয়া হলো যাতে তা হতে বিরত থেকে উভয় সুস্থ থাকে।

গর্ভবতী মায়ের চাপ ও চিন্তা এড়িয়ে চলাঃ

অতিরিক্ত চাপ ও টেনশন গর্ভবতী মা এর জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এর ফলে শারীরিক ভাবে আঘাত পেতে হয় মাকে। কোষ্ঠবদ্ধ, পিঠ ব্যথা, ইনোসমনিয়ার মতো নানান রকম রোগ দেখা দেয়। তাছাড়া চাপ ও টেনশনের ফলে বাচ্চার ওজনও খুব কম গতিতে বৃদ্ধি পায়।

তামাকজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকাঃ

সিগারেট এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গর্ভে থাকা বাচ্চার জন্য আরো বেশি ক্ষতিকারক। এ সময় গর্ভবতী মা নিজে ধুমপান থেকে বিরত থাকবে এবং অন্যকেউ ধুমপান করলে সেখান থেকেও দূরে থাকবে। কেননা ধুমপানের সময় অক্সিজেন কমতে থাকে ; ও এর ফলে বাচ্চার বৃদ্ধিক্রম ধীর গতিতে হয়। গর্ভাবস্থাতে দেখা দেয় নানান জটিলতা।

ক্যাফেইন বিদ্যমান পানীয় ত্যাগ করাঃ

প্রেগন্যান্সির সময় চা, কফি, সোডা অর্থাৎ ক্যাফেইন আছে এমন খাবার ত্যাগ করা। কারণ যখন এধরণের খাবার মা খায় সাথেসাথে বাচ্চার পেটেও যায়। এতে করে বাচ্চার হার্ট ও ব্রেইন উভয় এ ড্রাগে অভ্যস্ত হয়ে পরে!

অতিরিক্ত ভিটামিন এ জাতীয় খাবার না খাওয়াঃ

এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে যার শরীরে ভিটামিন এ বিদ্যমান নেই। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন এ’ও গর্ভবতী মায়ের জন্য ক্ষতিকারক ও বিষাক্ত। অতিরিক্ত ‘ভিটামিন এ’এর জন্য বাচ্চার জন্মের পর সমস্যা হয় কিংবা গর্ভপাত হয়ে যায়।

ফ্যাটি ফুডঃ

অতিরিক্ত ফ্যাটি ফুডের ফলে ক্লোরেস্ট্রলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

জাংক ফুড, ফাস্ট ফুড না খাওয়াঃ

জাংক কিংবা ফাস্ট ফুড! এগুলা খাওয়ার ফলে ক্ষুধা ঠিক মিটে যায় কিন্তু এতে কোনো ভিটামিন বা প্রোটিন থাকেনা। আর এর ফলে গর্ভবতী মা প্রয়োজনীয় খাবার খেতে পারেনা। যা পেটে থাকা শিশুর জন্য অনুচিত।

অর্ধ রান্না মাংস ও ডিমঃ

ডিম ও মাংস আধ সেদ্ধ করে খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ এ সময়। এদুটো খাওয়ার জন্য জ্বর, ডায়রিয়া, বমিবমি ভাব দেখা দেয়। তাই এগুলো থেকে সহস্র হাত দূরে থাকা উচিত। তবে রান্নাকরা মাংস ও ডিমে কোনো সমস্যা নেই।

অধৌত ফল ও সবজিঃ

অধৌত ফল ও সবজিতে থাকা নানা রকমের ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু। যা গর্ভবতী মা ও শিশু উভয়ের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

দীর্ঘ সময় ধরে গোসল ত্যাগঃ

দীর্ঘতর গোসলের ফলে শরীরের টেম্পারেচার বেড়ে যায়। এতে করে বাচ্চার স্বাস্থ্যে খুব খারাপ ভাবে এফেক্ট করে।

অতিরিক্ত বেশি ওজন ও অতিরিক্ত কম ওজনঃ

গর্ভবতী মা কে এসময় নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ ওজনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মায়ের ওজন কম ও অধিক উভয়ই আনবর্ণ শিশুর জন্য ক্ষতিকারক। একটি পরিমিত ওজনে মা কে থাকতে হবে।

বাদাম এলার্জির কারণঃ

সকাল-বিকাল নাস্তার খাবারের সাথে বাদাম খাওয়া হয়ে থাকে। বাদাম, চীনাবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম এগুলো খাওয়ার ফলে গর্ভবতী মা’র দেহে এলার্জি দেখা দেয়। ত্বকে উঠে বিভিন্ন ধরনের র‍্যাশেস।

বাসি বা রেফ্রিজারেটর খাবারঃ

গর্ভাবস্থা সময়কাল প্রতিটা নারীর জন্য বিশেষ সময়। নিজের প্রতি খেয়ালও রাখতে হয় বিশেষ ভাবে। বাসি বা রেফ্রিজারেটর খাবার অস্বাস্থ্যকর হয়ে দাঁড়ায় মা’র জন্য। সব সময় সতেজ খাবার খাওয়া দরকার। আর রেফ্রিজারেটর এ রাখা খাবার গরম নিতে হবে।

বিড়ালের বিছানাপত্রে হাত না লাগানঃ

টক্সোপ্লাসমসিস নামে এক ধরনের রোগ প্রায় থাকে এদের মাঝে যা বাচ্চার জন্য অতিরিক্ত ক্ষতিকারক। তাই বিছানা ছোঁয়ার সময় হাতে গ্লাবস পরে নিতে হবে।

কীটনাশক ওষুধঃ

বাজারজাত কীটনাশক ওষুধে রয়েছে বিষ। যা গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই এ সময় এ ধরনের কীটনাশক ওষুধ না এনে ভিনেগার কিংবা বেকিং সোডা কে ক্লিনার হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক।

প্রত্যেকেই কামনা করে একজন মা নিজে সুস্থ্ থাকুক এবং সুস্থ শিশু প্রসব করুক। আর তাদের জন্যেই আজকের এ লিখা!

রূপচর্চা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের যত্ন, রান্না, স্বাস্থ্যটিপস সহ মেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণার ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে নিয়মিত আমাদের পোষ্ট পেতে পারেন। আর আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কিংবা আরও আলোচনা করতে চাইলে জয়েন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

আপনার মন্তব্য

টি মন্তব্য